Wednesday, 11 May 2016

নিজামীর রাজনৈতিক জীবন

১৯৪৩ সালে পাবনায় জন্ম নেয়া নিজামী কামিল পাস করে ১৯৬৩ সালে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে। আর জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রসংঘের সঙ্গে যুক্ত হন ১৯৬১ সালে। ১৯৬৬ সালে প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সংঘের সভাপতি ও পরে দায়িত্বপান গোটা পাকিস্তানের। যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতা করতে গড়ে তোলা হয় আলবদর বাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে জামায়াত এবং ছাত্রসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকে দেশ ছেড়ে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মতিউর রহমান নিজামীও ছিলেন। পরে নিজামী ১৯৭৩ সালে গোপনে দেশে ফিরে রাজশাহী অঞ্চলে আত্মগোপণে ছিলেন।

এরপর ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে আবারও রাজনীতিতে ফেরেন এই আলবদর নেতা। স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াত নতুনভাবে সাংগঠনিক যে ভিত্তি দাঁড়িয়েছে, সে জন্য নিজামীর অবদানকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।

১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরের আমির। ১৯৮৩ সালে দায়িত্বপান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের, এর পাঁচ বছর পর ১৯৮৮ সালে হন দলের সেক্রেটারি জেনারেল। ২০০০ সালে গোলাম আযম আমিরের পদ থেকে অবসরে গেলে সেই চেয়ারে বসেন নিজামী। পাবনা-১ আসন থেকে তিনবার সাংসদ ছিলেন নিজামী।

এর মধ্যে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতার স্বাদ পায় তার দল জামায়াত। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারে আমলে মন্ত্রিত্ব পেয়ে যান মতিউর রহমান নিজামী। কিন্তু অঘটন পিছু ছাড়েনি তার, তাকে লাঞ্ছিত হতে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে।

অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত জোট সরকারের সময় মতিউর রহমান নিজামী শিল্পমন্ত্রী থাকার সময় সরকারি সার কারখানার জেটিতে দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র আটকের ঘটনা ঘটেছিল। সেই মামলায় বিচারিক আদালত তার ফাঁসির আদেশ দেন।

হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে নিজামী আপিল করার পর, গত ৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। গত ৫ মে আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায় তার রিভিউ আবেদন।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবশেষে মঙ্গলবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে (১১ মে) শেষ হলো নিজামী অধ্যায়।

No comments:

Post a Comment