Thursday, 12 May 2016

লোহাগাড়ায় ইউপি নির্বাচনে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল


লোহাগাড়ায় ৬ ইউনিয়নে ৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ১১ ও ১২ মে চেয়ারম্যান- মেম্বার পদপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার আল মামুন জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান পদে কারো মনোনয়নপত্র বাতিল না হলেও সংরক্ষিত মহিলা আসন ও সাধারণ মেম্বার পদে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন বড়হাতিয়ার মেম্বার পদপ্রার্থী মোজাম্মেল হক, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী মমতাজ বেগম, পুটিবিলার মেম্বার পদপ্রার্থী আবদুল খালেক, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার জেসমিন আক্তার, চুনতির মেম্বার প্রদপ্রার্থী মোঃ নেছার উদ্দিন ও পদুয়ার মেম্বার পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম মুরাদ।

নির্বাচন অফিসার আরো জানিয়েছেন, এ নির্বাচনে ২৫০ জন মেম্বার পদপ্রার্থী ও ৬০ জন মহিলা মেম্বার এবং ৩৪ জন চেয়ারম্যান মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এবারও নৌকা প্রতীকে ৬ জন ও ধানের শীষে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আগামী ২০ মে প্রতীক পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার প্রচারণা চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Wednesday, 11 May 2016

লোহাগাড়ায় চেয়ারম্যান- মেম্বার পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৩৪৪ জন

লোহাগাড়ায় অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আজ ১০ মে চেয়ারম্যান- মেম্বার পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। ৬ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৪ জন, মেম্বার পদে সংরক্ষিত আসনে ৬০ জন ও সাধারণ আসনে ২৫০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

চুনতি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমানে চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন জনু (আ.লীগ), নূর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (বিএনপি), সোলতান আহমদ, মোঃ আইয়ুব ও নুরুল হুদা (স্বতন্ত্র প্রার্থী)।

সাধারণ সদস্য পদে ৪২ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১১ জন।

বড়হাতিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোনাইদ (স্বতন্ত্র), সাজেদুর রহমান চৌধুরী দুলাল (আ.লীগ), আহমদ কবির (জাতীয় পার্টি) ও সৈয়দ আহমদ আনসারী (স্বতন্ত্র)।

সাধারণ সদস্য পদে ৪৩ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ জন।

পুটিবিলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম (স্বতন্ত্র), হাজী মোহাম্মদ ইউনুছ (আ.লীগ), ফরিদ আহমদ মুন্সী (বিএনপি), মোঃ ফোরকান, ফোয়াদ বিন হানিফ চৌধুরী শাকিল, এডভোকেট আবু মোজাফফর (স্বতন্ত্র) প্রার্থী। সাধারণ সদস্য পদে ৪৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮ জন।

কলাউজান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ (আ.লীগ), ফজলে এলাহী চৌধুরী (বিএনপি), সাহাব উদ্দিন, নুরুল আলম চৌধুরী ও আবদুস সবুর (স্বতন্ত্র)।

সাধারণ সদস্য পদে ৪০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৪ জন।

চরম্বা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সাদাত উল্লাহ (স্বতন্ত্র), মোঃ শাহ আলম (বিএনপি), শফিকুর রহমান (আ.লীগ), সামশুল আলম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ মুছা, জাহাঙ্গীর আলম ও মোঃ শফিউল আজম (স্বতন্ত্র)।

সাধারণ সদস্য পদে ৪২ জন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১১ জন।

পদুয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জহির উদ্দিন (স্বতন্ত্র), জসিম উদ্দিন (বিএনপি), এডভোকেট হুমায়ুন কবির বাদশা (স্বতন্ত্র), মোস্তাক আহমদ সবুজ (স্বতন্ত্র), এস এম আবু সাইদ চৌধুরী টিটু (স্বতন্ত্র) ও আবছার আহমদ (আ.লীগ)।

সাধারণ সদস্য পদে ৩৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৭ জন।

১১ ও ১২ মে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ও ১৯ মে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন বলে জানান উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার আল মামুন।

লোহাগাড়ায় ক্রিকেট ব্যাটের আঘাতে

লোহাগাড়ায় ক্রিকেট ব্যাটের আঘাতে ১১ মে বুধবার সকাল ৭টায় এক খেলোয়াড় নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। নিহত খেলোয়াড় সাইফুল ইসলাম (১৫)।

তিনি পুটিবিলা ছুটার পাড়ার আশরাফ আলীর পুত্র ও উপজেলা সদরের সুখছড়ি উজিরভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র বলে জানা গেছে।

গত ৯ মে সোমবার বিকেলে উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ছুটার পাড়া এলাকায় ক্রিকেট খেলার সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় শওকত (২২) এর ব্যাটের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন সাইফুল ইসলাম। ব্যাটের আঘাতে সাইফুল ইসলাম মাঠে ঢলে পড়ে গেলে তাকে উপজেলা সদরে এক বেসরকারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। পরে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন খেলার মাঠে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে শওকতের হাতে থাকা ক্রিকেট খেলার ব্যাট নিয়ে সাইফুল ইসলামের মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে চিকিৎসাসেবার জন্য প্রেরণ করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অবশেষে একদিন পর মারা গেলেন তিনি। এ ব্যাপারে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সাইফুল ইসলামের মরদেহ বাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এ ঘটনার জন্য গত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লোহাগাড়া থানায় মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানায়। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে পুলিশসহ স্থানীরা জানিয়েছেন। স্বজনরা সিদ্ধান্ত নেবেন মামলার ব্যাপারে। সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার এসআই লিটন সিংহ।

রিক্সা চালিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী জিসান দেশ সেরা উদ্ভাবক


একর ব্যাতিক্রম গল্প যে কিনা রিক্সা চালিয়েও হাল ছারেনি এই জিসান। দিন রাত পরিশ্রম করে নিজের প্রযুক্তিতে তৈরী করেছেন তিনটি জ্বালানী সাশ্রয়ী গাড়ী হয়েছেন দেশ সেরা। শুধু দেশে না আন্তর্জাতিক অংগনে আলোচনার পাএ হয়েছেন এই অনাবদ্ধ মানুষ, নিজের ঝোলায় পুড়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরুস্কার।

অংশগ্রহণকারী দল::: বুয়েট “” রুয়েট “” আহাসানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় “” এম.আই.এস.টি” বি.টি.এস.সি আয়োজক:::: জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোর্পারেশন এজেন্সি।

২০১১ইং সালে জ্বালানী সাশ্রয়ী গাড়ী তৈরীতে মন নিবেশ করি এবং আমি সফল হই। গাড়ীটি এক লিটার পেট্রোল এ ১২০ কিঃমিঃ পথ অতিক্রম করে। এর পরে জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকা ২০১৩ইং সালে একটি প্রতিযোগিতার আযোজন করেন। এই প্রতিযোগিতার বুয়েট ” রুয়েট “এম.আই.এস.টি ” রুয়েট ” আই.ইউ.টি” কুয়েট “আমি বরিশাল টি.এস.সি থেকে অংশগ্রহণ করি। ৪র্থ স্থান অধিকার করি তেমন ভাল করতে পারিনি তাই ফিরে এসে প্রতিজ্ঞা করি আমাকে চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে। সে লক্ষে কাজ করি । ছয় মাস এ গাড়ীর দুইটি নকশা তৈরী করি এর পর শুরু করি মূল কাজ প্রধান সমস্যা ছিল টাকা কারন আমি নিতান্তই গরীব ঘরের সন্তান ‘এই পরিস্তিতে গাড়ী তৈরীর খরচ ছিল খুবই কঠিন কিন্ত আমার লক্ষ একটাই ছিল আমি চ্যাম্পিয়ন হবোই।বাবা’র সাথে কথা বল্লাম বাবা আমাকে অভয় দিয়ে বলে তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও হাল ছেরো না ‘ বাবা বাড়ি’র গাছ বিক্রয় সহ বিভিন্ন উপায়ে আমাকে টাকা দিতে থাকে।এ ছারা আমি সাহায়্যর জন্য বিভিন্ন কর্তা ব্যাক্তির কাছে দৌর জাপ করেছি ” গিয়েছিলাম রাজনৈতিক কর্তাদের কাছেও কারন আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর একটি গুরুত্ব পূর্ণ সংগঠন ছাএলীএর সাথে জরিত তারা দিব দিব বলে দিয়েছে শুধু মিথ্যা আশ্বাস। শত প্রতিকুলতার মধ্যেও আমি আমার লক্ষে ছিলাম অটুট।


এমন কি রাতের আধারে মাথায় গামছা বেধে চালিয়েছি রিক্সাশ। এই আইডিয়া টা দিয়ে ছিলেন বরিশাল এর আগের ডি.সি মহোদয় শ্রদ্ধেয় শহিদুল আলম স্যার তবে সে বলেছিলেন মাহিন্দ্রা বা অটো চালিয়ে টাকা উপার্জন করে গাড়ী তৈরি করতে। অনেক রাত অভুক্ত থেকেছি কিন্তু হাল ছারিনি।আমার এই কথা গুল ধনি মানুষদের কাছে কিছুই মনে হবে না।

কিন্তু আমার কাছে ছিল একটি যুদ্ধের মত এমন কি ঐ দুই বছরে নতুন কোন জামা প্যান্ট ও কিনতে পারি নাই। সময় শেষ এর দিকে রাত দিন গাড়ীর কাজ করতে থাকলাম কাজ করার সময় দূর্ঘটনা ও শিকার হয়ে হাসপাতালেও ছিলাম।হাল ছারিনি সবাই আমাকে বলো এই পাগলামি বাদ দিয়ে ভালো কিছু করো আমি তখন ভাবতাম আমি মনে হয় ভাল কিছু করছি কারন আপনার কাজ দেখে যদি মানুষ না হাসে তাইলে সেটা কাজ এর মধ্যেই পরে না।এসে গেল সেই স্বপের দিন ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান শুরু হল আমার দুটি গাড়ি দুটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় একটি সব চাইতে কম জ্বালানি ব্যাবহার করে পথ অতিক্রম করে আর অন্য টি সকল বিভাগে শেরা হয়।


(২০১৩ইং এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণ করে বরিশাল জেলায় প্রথম এবং জাতীয় পার্যায় ২য় স্থান অধিকার করি :::::এখানে আরো একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় বিজ্ঞান ও গবেষনা খাতে কেন বারাদ্দ নাই।)

থাকলে হয়তো আমাকে এতটা কষ্ট করতে হত না। ::::তাই মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় এর কাছে এই প্রকল্পটির জন্য সাহায়্যর আবেদন করছি এখন আমার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে সাধারন মানুষ সহ দেশর উন্নায়ন এবং ডিজিটাল দেশ গড়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। লেখাটি কারো কাছে বিরক্তির কারন হলে ক্ষমা চাইছি।

নিজামীর ফাঁসি যেভাবে হলো

কারাগারের জেলরের কক্ষের পাশের কক্ষে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে কনডেম সেলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তখন রাত ৯টা ৫৫ মিনিট। ততক্ষণে টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেটে সংবাদ পোর্টালের মারফত দেশের মানুষ জেনে গেছে, নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হতে আর দেরি নেই। ঠিক রাত ১২টা ১০ মিনিটে তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি দেওয়ার আগের মুহূর্তগুলো কিভাবে কেটেছে নিজামীর, সেটা জানা গেছে কারাগারের বিভিন্ন সূত্রে।

ওই সূত্রগুলো বলেছে, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে নিজামী ছিলেন অনেকটাই স্বাভাবিক। পরিবারের সদস্য ও কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন তিনি।

কারা সূত্র জানায়, নিজামীর এক মেয়ে দেখা করার সময় তাঁকে একটি নতুন ফ্রেমের চশমা দেন। নিজামী সেই চশমা পরেন। স্বজনরা তাঁর জন্য কিছু খাবারও আনেন। নিজামী সামান্য খাবার খেয়েছেনও। ফাঁসির আগে তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, তাঁর ব্যবহৃত সব জিনিসপত্র যেন তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজামীকে কনডেম সেলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে গোসল করানো হয়। গোসলে সহায়তা করেন কারাগারের পেশ ইমাম মাওলানা মনির হোসেন। গোসল করার পর নিজামী নামাজ পড়েন। এরপর কোরআন তিলাওয়াতও করেন তিনি।

১১টা ৫৫ মিনিটে জল্লাদ রাজুর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের জল্লাদদল কনডেম সেলে যায়। তাদের মধ্যে আবুল হোসেন, মাসুম-১ ও মাসুম-২ ছিল। এ সময় সেখানে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, জেলর নেছার আলম, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মালেক মৃধা ও কারাগারের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তখন সিনিয়র জেল সুপার নিজামীকে বলেন, ‘আপনার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।’ নিজামী বলেন, ‘আমার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।’ পরক্ষণেই দোয়া পড়ে চোখের চশমা খুলে টেবিলে রাখেন। এরপর জল্লাদ রাজু বলে, ‘হুজুর হাত পেছনে নেন।’ হাত  পেছনে নিতেই হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় তিনি নিজেই তওবা পড়বেন বলে জানান। এরপর সেলের ভেতরে তাঁকে জমটুপি পরানো হয়। 

১২টা ৫ মিনিটে নিজামীকে সেল থেকে বের করে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তিনি উচ্চ স্বরে দোয়া পড়ছিলেন। এরপর রশি পরানোর সময় তিনি বলেন, ‘আমি ব্যথা পাব। আমি নিজেই রশিটি দিই।’ দোয়া পড়ার পর ১২টা ১০ মিনিটে জল্লাদ রাজু লিভার টানে। এরপর ফাঁসির দড়িতে পাঁচ মিনিট নিজামীকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে পায়ের রগ কাটাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। রাত দেড়টার দিকে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/news/2016/05/11/357172#sthash.dbYvC8dL.dpuf

নিজামীর রাজনৈতিক জীবন

১৯৪৩ সালে পাবনায় জন্ম নেয়া নিজামী কামিল পাস করে ১৯৬৩ সালে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে। আর জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রসংঘের সঙ্গে যুক্ত হন ১৯৬১ সালে। ১৯৬৬ সালে প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সংঘের সভাপতি ও পরে দায়িত্বপান গোটা পাকিস্তানের। যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতা করতে গড়ে তোলা হয় আলবদর বাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে জামায়াত এবং ছাত্রসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকে দেশ ছেড়ে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মতিউর রহমান নিজামীও ছিলেন। পরে নিজামী ১৯৭৩ সালে গোপনে দেশে ফিরে রাজশাহী অঞ্চলে আত্মগোপণে ছিলেন।

এরপর ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে আবারও রাজনীতিতে ফেরেন এই আলবদর নেতা। স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াত নতুনভাবে সাংগঠনিক যে ভিত্তি দাঁড়িয়েছে, সে জন্য নিজামীর অবদানকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।

১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরের আমির। ১৯৮৩ সালে দায়িত্বপান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের, এর পাঁচ বছর পর ১৯৮৮ সালে হন দলের সেক্রেটারি জেনারেল। ২০০০ সালে গোলাম আযম আমিরের পদ থেকে অবসরে গেলে সেই চেয়ারে বসেন নিজামী। পাবনা-১ আসন থেকে তিনবার সাংসদ ছিলেন নিজামী।

এর মধ্যে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতার স্বাদ পায় তার দল জামায়াত। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারে আমলে মন্ত্রিত্ব পেয়ে যান মতিউর রহমান নিজামী। কিন্তু অঘটন পিছু ছাড়েনি তার, তাকে লাঞ্ছিত হতে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে।

অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত জোট সরকারের সময় মতিউর রহমান নিজামী শিল্পমন্ত্রী থাকার সময় সরকারি সার কারখানার জেটিতে দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র আটকের ঘটনা ঘটেছিল। সেই মামলায় বিচারিক আদালত তার ফাঁসির আদেশ দেন।

হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে নিজামী আপিল করার পর, গত ৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। গত ৫ মে আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায় তার রিভিউ আবেদন।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবশেষে মঙ্গলবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে (১১ মে) শেষ হলো নিজামী অধ্যায়।

Tuesday, 10 May 2016

নিজামীকে ফাঁসি দিতে কারাগারে জল্লাদ রাজু


মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি রায় কার্যকরে জল্লাদদের টিমে থাকছেন জল্লাদ রাজু। তাকে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে আনা হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুর তিনটায় রাজুকে আনা হয় এ কারাগারে। কারারক্ষীদের প্রহরায় প্রিজন ভ্যানে করে এনে রাজুকে কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়েছে।

কারা বিধি অনুসারে, একটি ফাঁসির রায় কার্যকর করতে সাতজন জল্লাদ অংশ নেন। তাদের প্রধান থাকেন একজন এবং সহযোগী জল্লাদ থাকেন ৬ জন। এখন পর্যন্ত জল্লাদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা না হলেও জল্লাদ রাজুর নেতৃত্বে নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।

কারা সূত্র জানায়, রায় কার্যকর করতে জল্লাদ রাজুর সঙ্গে আরও নয় জল্লাদকে নিয়ে টিম করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন জল্লাদ সাত্তার, আবুল, হযরত, রনি, ইকবাল, মাসুদ, মুক্তার, আব্দুল ওহাব ও ওমর আলী শেখ।

এখন পর্যন্ত জল্লাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা না হলেও জল্লাদ রাজুর নেতৃত্বে নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরের সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে কারা সূত্র। কোনো কারণে রাজু নেতৃত্ব দিতে না পারলে আবুল, হযরত বা সাত্তার এ সুযোগ পাবেন।

গত বছরের ২১ নভেম্বর রাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরেও ছিলেন রাজু জল্লাদ। জল্লাদ সর্দার শাহজাহানের নেতৃত্বে ওই টিমে আরও ছিলেন জনি জল্লাদ।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসি কার্যকরের ক্ষেত্রে জল্লাদ শাহজাহান, রাজু ও জনি অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তবে শাহজাহানের বয়স বেশি হওয়ায় এবার তিনি নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরে থাকছেন না। জল্লাদ জনি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

নিজামীর ক্ষমা চাওয়ার অপেক্ষায় সরকার  


 মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর দোষ স্বীকার করে প্রাণ ক্ষমা চাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার, এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মঙ্গলবার (১০ মে) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রী তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান।

কত সময় পর্যন্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য জেলকোড অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে দ্রুতই রায় কার্যকর করা হবে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

তিনি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, পাকিস্তান বা অন্য কেউ যাই বলুক, আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে সরকার প্রস্তুত। তবে রায় কর্যকর করার সময়ের বিষয়টি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে নিজামীর ক্ষমা চাওয়ার ওপর।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফাঁসির রায়, রিভিউ আবেদনসহ সবগুলো আদেশে ফাঁসি বহাল আছে। রায়ের পর আমরা (সরকার) একের পর এক সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করছি। আমরা (রায় কার্যকরে) সব প্রস্তুতি নিয়েছি।

কখন ফাঁসি দেওয়া হবে জানতে চাইলে কামাল বলেন, এখন অপেক্ষা করছি নিজামীর ক্ষমা চাওয়ার ওপর। যদি ক্ষমা চান তাহলে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা দ্রুত কার্যকর হবে। আর ক্ষমা না চাইলে যেকোনো সময় তা কার্যকর করা হবে। আমরা প্রস্তুত।

রায় কার্যকর নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থির অবনতি চায় না। আমাদেরও পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।

পাকিস্তান এই রায়ের সমালোচনা ও রায় বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ইতোমধ্যে পাকিস্তানকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

‘চট্টগ্রাম ও মহসিন কলেজের চিন্তা বাদ দিলে আপোষ করতে রাজি’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণির মুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে আদালত প্রাঙ্গণ। মঙ্গলবার সকাল থেকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী। এ কর্মসূচি চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

সকাল ১১টা থেকে নগর, চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও আশেকানে আওলিয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এসময় তাদের হাতে রণির মুক্তির দাবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়।

পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করে তারা। এসময় রণিকে দণ্ড দেওয়া বিচারক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন, নগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত কচি, জয়নাল উদ্দিন জাহিদ, উপ সম্পাদক এম আর হৃদয়, চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম, জাবেদুল ইসলাম জিকু, জাহাঙ্গির রেজা, হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মায়মুন উদ্দিন মামুন, সাইফুদ্দিন মানিক, ফখরুজজ্জামান আল ফয়সাল, আনোয়ার হোসেন পলাশ প্রমুখ।

সমাবেশে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম বলেন, রণি ভাইকে দেখতে সোমবার বিকেলে কারাগারে গিয়েছিলাম। রণি ভাই বলেছেন, ‘‘তাকে আটকের পর ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের চিন্তা বাদ দিলে তার সঙ্গে আপোষ করতে রাজি বলে জানান।’’ কিন্তু রণি ভাই তাকে মুখের ওপর বলে দিয়েছেন দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ দুটি কলেজ থেকে ছাত্রশিবির বিতাড়িত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন স্বাধীনভাবে দুটি কলেজে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। আমি মরে গেলেও এ দুটি কলেজ পুনরায় শিবিরের হাতে তুলে দেব না।’

এসময় বক্তারা বলেন, ছাত্র সমাজের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা আর চরম শিবির বিদ্বেষী মনোভাবই কাল হয়েছে রণির জন্য। এজন্য দলের অনেক হাইব্রিড নেতার চক্ষুশীলও ছিলেন তিনি। তাই তাকে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

দ্রুত ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করে নূরুল আজিম রণিকে মুক্তি দিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। তা না হলে আরও কড়া আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে সমাবেশ চলাকালে খবর আসে রণিকে অস্ত্র মামলায় জামিন দেননি আদালত। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নতুন আদালত ভবনের চারতলা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় উপস্থিত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অ্যাডভোকেট বদিউল আলম স্মারক ব্রিজের নিচে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় আদালত প্রাঙ্গণের দিকে গাড়ি চলাচলে বাধা দেন তারা। ফলে কোনো গাড়িই আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারেনি।

চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম বলেন, ‘রণি ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে আমরা বিকেল চারটা পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান করবো।’

কারাগারের ফোনের অপেক্ষায় নিজামীর স্বজনরা

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রস্তুতি চলছে মানবতাবি‌রোধী অপরা‌ধের দা‌য়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ম‌তিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের। আর তার রাজধানীর বনানীর মিশন নাহারের বাড়িতে অবস্থান করা পরিবারের সদস্যরা ‘শেষ দেখা’ করতে কারা কর্তৃপক্ষের ফোনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শেষবা‌রের মতো নিজামীকে দেখতে তার স্ত্রী, বড় ছে‌লে, বড় পুত্রবধূ, ছোট মে‌য়ে ও দুই  না‌তি ছাড়া কেউই যা‌বেন না। নিজামীর চার ছে‌লের ম‌ধ্যে তিনজন ও দুই মে‌য়ের একজন এখন পর্যন্ত বি‌দে‌শে অবস্থান কর‌ছেন। ফলে তা‌দের প‌ক্ষে বাবার স‌ঙ্গে শেষ দেখা করা সম্ভব হ‌চ্ছে না।

মঙ্গলবার (১০ মে) দুপু‌রে নিজামীর ঘ‌নিষ্ঠ ক‌য়েকজন  এমনটাই জা‌নি‌য়ে‌ছেন।

রাজধানীর বনানীর ১৮ নম্বর রোডের জে ব্ল‌কের ১৮ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাড়ি মিশন নাহা‌রে থাকেন বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায়ে ফাঁসির দড়িতে ঝোলার অপেক্ষায় থাকা দেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী নিজামীর পরিবারের কয়েকজন।

ফাঁসির দড়ি এড়াতে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে এখন কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন নিজামী। প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা চাওয়ার পর আবেদন নাকচ হলে শুরু হবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। তবে ফাঁসি কার্যকরের আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে থাকা নিজামীর সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে পারবেন তার স্বজনেরা। কারা কর্তৃপক্ষ ফোন করে কারাগারে আসতে বলবেন তাদের। মিশন নাহারে থাকা স্বজনেরা সেই ফোনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেই জানিয়েছেন পরিবারের ঘনিষ্ঠরা।  

নিজামীর চার ছে‌লে ও দুই মে‌য়ের ম‌ধ্যে বড় ছে‌লে না‌জীব মো‌মেন ‌দে‌শে ব্যা‌রিস্টারি ক‌রেন। বাকি পাঁচজনের ম‌ধ্যে ডা. খা‌লেদ থা‌কেন অ‌স্ট্রেলিয়ায়, তা‌রেক থা‌কেন অা‌মে‌রিকায় ও ছোট ছে‌লে তালহা মা‌লয়ে‌শিয়ায় থা‌কেন। বড় মে‌য়ে খা‌দিজা থা‌কেন লন্ড‌নে ও ছোট মে‌য়ে মহ‌সিনা মা‌লয়ে‌শিয়ায় পিএইচ‌ডি কর‌তে গে‌লেও  এখন বাংলা‌দে‌শে অা‌ছেন।

মিশন নাহারের চতুর্থতলার ফ্ল্যাটে তাই এ মুহূর্তে বড় ছেলে ব্যারিস্টার না‌জীব মো‌মেন, বড় পুত্রবধূ ও দুই  না‌তি   এবং ছোট মে‌য়ে মহ‌সিনাকে অবস্থান করছেন নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী। বিদেশে অবস্থান করা পরিবারের সদস্যদের  মঙ্গলবার পর্যন্ত দে‌শে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই ব‌লে জানিয়েছে পারিবারিক একটি সূত্র।

নিজামীর ঘ‌নিষ্ঠ একজন বাংলা‌নিউজ‌কে ব‌লেন, নিজামীর যে চার সন্তান বিদেশে আছেন, তারা দেশে এসে কি তাদের বাবা‌কে বাঁচা‌তে পার‌বেন? বরং উল্টো ঝা‌মেলায় পড়ার আশঙ্কা আছে। সরকার য‌দি তা‌দের আর বি‌দেশ যে‌তে না দেয়? এজন্য তার ফাঁসির পরও ওই চার ছেলে-মেয়ের কেউই তার মরদেহ দেখতে দেশে আসবেন না।  

তিনি জানান, এমনকি নিজামীর মৃতদেহ দেখানোর জন্যও বিদেশে অবস্থানরতদের আসার অপেক্ষা করবেন না দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা। ফাঁসি কার্যকর হলে সরাসরি নিজামীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামের বাড়িতে। সেখানকার পারিবারিক কবরস্থানে নিজামীকে দাফন করার সম্ভাবনা বেশি বলেও জানান তিনি।

ওই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানান, এখন কারাগার থেকে শেষ দেখার খবর আসার অপেক্ষায় আছেন বাসার সদস্যরা। কোনো ধরনের খবর এলেই তারা কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

পারিবারিক অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে গাজীপু‌রের কা‌শিমপুর কারাগা‌রে নিজামী‌কে দেখ‌তে গি‌য়ে‌ছিলেন তার বাসায় থাকা পরিবারের সদস্যরা। এরপর থে‌কে এখন পর্যন্ত তা‌কে আর দেখ‌তে যান‌নি তারা। এমনকি তার স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী বাড়ির বাইরেও বের হননি।

দ্বিতীয় দিনের মতো সরেজমিনে গিয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নিজামীর পরিবারের কোনো সদস্যকে মিশন নাহারের বাড়ি থেকে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। তবে মাঝে মধ্যে ষষ্ঠ তলা থেকে নারীকণ্ঠ ভেসে আসছিল। এছাড়া নিজামীর দুই নাতিকে গ্রাউন্ড ফ্লোরে খেলতে দেখা গেছে।

তবে নিজামীর পরিবার সম্পর্কে বাসার কেয়ারটেকার থেকে শুরু করে দারোয়ানরা পর্যন্ত তেমন মুখ খুলছেন না। বেশিরভাগ সময়ই প্রধান গেট বন্ধ রেখে ভেতরে থাকছেন তারাও।