Thursday, 28 July 2016

১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭নং সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর নাজমুল হক শুধু লোহাগাড়ার ননসমগ্র জাতির গৌরব ও অহংকার : ড. হারুন-অর-রশীদ


১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭নং সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর নাজমুল হক শুধু লোহাগাড়ার নন বরং সমগ্র জাতির গৌরব ও অহংকার। দীর্ঘদিন পরে হলেও লোহাগাড়ায় বার আউলিয়া কলেজে উক্ত সেক্টর কমান্ডারের নামে একটি ভবন নামকরণ হওয়ায় তিনি খুবই আনন্দিত। শিক্ষাঙ্গনে এ স্মৃতি এক যুগান্তকারী মাইলফলক। বর্তমান প্রজন্মরা এ ভবনের নামের দিকে তাকিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উজ্জীবিত করে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। বার আউলিয়া কলেজের এ বিরল পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান অতিথি এবং আগামীতে এ কলেজের অগ্রযাত্রা আরো গতিশীল করে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার জন্য কলেজ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি আন্তরিক থাকার আহবান জানান। ২৮ জুলাই বেলা ১২টায় কলেজ চত্বরে নবনির্মিত শহীদ মেজর নাজমুল হক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বৃক্ষচারা রোপনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মোঃ রেজাউল কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফিজনূর রহমান। অধ্যাপক স্বপন কান্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ ফয়েজ উল্লাহ চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মোঃ জামাল উদ্দিন, সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর নাজমুল হক স্মৃতি সংসদ লোহাগাড়ার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম. এম. আহমদ মনির। পবিত্র কোরআন, গীতা ও ত্রিপটক পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয় ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবন উৎসর্গ করেছেন এ দেশের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য। তাঁরই আহবানে মুক্তিযুদ্ধ সংঘঠিত হয় এবং বীর বাঙালীর নন্দিত সন্তানেরা অস্ত্র হাতে মাতৃভূমির মুক্তির জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধে অগণিত মানুষ শহীদ হন এবং নির্যাতিত হন অসংখ্য নর-নারী। বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ ও জাতির অম্লান স্মৃতি। এহেন স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে বার আউলিয়া কলেজে সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর নাজমুল হক নামে ভবন নির্মিত হওয়ায় তিনি উক্ত কলেজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি কলেজের ভৌগোলিক অবস্থান, পরিবেশ ও বিভিন্ন উদ্যোগ দেখে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, আগামীতে এ কলেজের আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যত রচনা করতে অকুন্ঠচিত্তে সহযোগিতা দেবেন বলে আশ্বাস দেন। একই সময় তিনি চলমান সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সোনার বাংলা গঠনে শিক্ষার্থীসহ সকলের ঐক্যমতভিত্তিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। সুন্দর পরিবেশ গঠন করতে পারলে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন সোনার বাংলায় সোনা ফলনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, সমাবেশ পূর্বে মহান অতিথিকে স্কাউট ও শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে সড়কের দু’পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠান স্থলে নিয়ে আসেন এবং ওই সময় মহান অতিথি কলেজ চত্বরে একটি বৃক্ষচারা রোপন করেন। পরবর্তীতে ভবনের ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভবন উদ্বোধন করেন।

No comments:

Post a Comment