Friday, 8 July 2016

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা বিদ্যমান: যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বাস করে, বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা বিদ্যমান। যেকোনো বিদেশির ওপর এ ধরনের হামলা হতে পারে। বাংলাদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে মুখপাত্র জন কিরবি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকায় জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে আইএস, না অভ্যন্তরীণ জঙ্গিরা জড়িত, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তদন্ত করছে। তদন্তকাজ শেষ হোক, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানাক তদন্তে কী পাওয়া গেছে। তারপরই এ ব্যাপারে মন্তব্য করা যাবে। তবে ঢাকায় যে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে, এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
মুখপাত্র কিবরি বলেন, ‘শোলাকিয়ার ঘটনাটি নতুন, আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ চলমান জঙ্গি হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রথম কথা বলুক।’ পর্যাপ্ত তথ্য না পেয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে, ৬ জুলাই মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশে ট্রাভেল অ্যালার্ট-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলমান জঙ্গি হামলা এবং চরমপন্থী সহিংসতার বিষয়ে ভ্রমণের মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই ধরনের ট্রাভেল অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। তিনি জানান, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলের ব্যাপারে বিধিনিষেধ ও বিশেষ সতর্কতা আরোপ করেছে।
জন কিরবি বলেন, জোর দিয়ে বলেন বাংলাদেশে ভ্রমণে ইচ্ছুক মার্কিন নাগরিকেরাও যেন দূতাবাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সতর্কতা অবলম্বন করেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং নিরাপদে থাকার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নাগরিকদের যতটা সম্ভব তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছি, যাতে তাঁরা ভ্রমণের আগে তথ্যবহুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সহযোগিতার কথা বলেছেন। গুলশান ঘটনা তদন্তে এফবিআই সহযোগিতা করবে বলেও জানানো হয়। ইতিমধ্যে এফবিআই তদন্তকাজে সহযোগিতা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে হালনাগাদ তথ্য নেই। তদন্তের বিষয়টি দেখছে বাংলাদেশ।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে গুলশানের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় বাংলাদেশিসহ অন্তত ২০ বিদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার বাংলাদেশ পুলিশের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ছয় হামলাকারীও নিহত হন।
সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গি নির্মূলে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের দিন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে হামলায় পুলিশসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবারের ঘটনার রেশ না কাটতেই শোলাকিয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশকে আবারও শিরোনাম করেছে।

No comments:

Post a Comment