Friday, 29 April 2016

দেবীদ্বারে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার

দেবীদ্বারে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের গলিত লাশের পরিচয় মিলেছে। গত বুধবার দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের কোটনা (নোয়াবগঞ্জ) গ্রামের মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের নির্জন বিলে একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য গণী মিয়ার ধানখেত থেকে ওই যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, অনলাইন ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে স্বজনেরা নিহত যুবকের পরিচয় সনাক্ত করেছেন। নিহত যুবক দুবাই প্রবাসী মোঃ স্বপন মিয়া (২৬) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রানীগাছ গ্রামের মোঃ মুজাফ্ফর আলীর পুত্র। বুধবার বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে দেবীদ্বার থানা পুলিশ কর্তৃক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধারের সংবাদে নিহতের বড় ভাই পূবালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও তার নিকট আত্মীয় হাজী নেয়াব মিয়া থানায় এসে লাশের ছবি দেখে এবং পরিহিত শর্টপ্যান্ট দেখে লাশ সনাক্ত করেন।

নিহতের বড় ভাই পূবালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার ভাই মোঃ স্বপন মিয়া (২৬) প্রায় ৬বছর ধরে দুবাই প্রবাসী হিসেবে ছিল। গত জানুয়ারী মাসে ৩ মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসে। আগামী ৪ এপ্রিল দুবাই চলে যাওয়ার কথা ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সোমবার সকালে বুড়িচং উপজেলার তার এক বন্ধু মোবাইল ফোনে বুড়িচং খেয়াঘাটে ডেকে নেয়। তার পর বিকেলে আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোন থেকে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। আমরা তাৎক্ষনিক দেড় লক্ষ টাকা আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোনে বিকাশ করে পাঠাই। আমার ভাই কোথায় আছে, কখন ফেরত দেবে তার কোন সঠিক উত্তর পাইনি। পরে ওই দিনই ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করি। এর পর আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোন থেকে বাকী টাকার জন্য চাপা চাপি করলেও ভাইকে কখন দেবে, কোথায় আছে তার ঠিকানা দেয়নি। টাকা দিলেই ছেড়ে দেবে বলে জানায়। আমরা বুধবার সকালে আরো ৭৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাই। তার পর ওই মোবইল সেট বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করতে পারি নাই। বুধবার বিকেলেই জানতে পারি দেবীদ্বার থানা পুলিশ এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। (জিডি নং- ৭৫৫, তারিখ- ২৪/০৪/১৬ইং)। আমার ভাই স্বপন সব সময় যে শর্ট প্যান্টটি পড়ে থাকত। লাশের পরনে ওই প্যান্টটি দেখেই সনাক্ত করতে পেরেছি।

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় প্রথমে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছিল। ডায়েরী নং- ৯১৯, তারিখ- ২৭/০৪/১৬ইং। লাশের ছোরত হালে হাটুর উপরের অংশে ক্ষত চিহ্ন ও লাশের ধরন দেখে মনে হল এটি হত্যাকান্ড। সে কারনে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোঃ সোহেল আহমেদকে বাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়েরপূর্বক একই থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) আশিকুর রহমানকে মামলার তদন্তভার দেয়া হয়। পরে নিহতের স্বজনেরা এসে লাশ সনাক্ত করেন। ওই ঘটনায় হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই খুণিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।

উল্লেখ্য, নিহত যুবকের শরীরের পেটের অংশ ও মুখমন্ডল পঁচে পোকায় বাসা বেঁধেছিল। বুকের হাড়গুলো ভেসে উঠলেও পরনে নীল রং এর একটি জিন্সের প্যান্ট এবং নীল রঙ্গের একটি শার্ট পরিহিত থাকায় ওই অংশটি পঁচে গেলেও অক্ষত ছিল।

No comments:

Post a Comment